রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশাল জেলায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আগামীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে জোরালো ও ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধিমালা অনুসরণ করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নানা কার্যক্রম শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বরিশাল জেলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক অবৈধ ইটভাটা চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে ৯টি ইটভাটায় অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। অভিযানে ৮টি ড্রাম চিমনি ইটভাটা ও ‘লুনা ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
তবে বরিশালে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় এবং ঢাকা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না আসায় কিছু ক্ষেত্রে অভিযান বিলম্বিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কর্তৃপক্ষ জানায়, খুব শিগগিরই বরিশাল জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য আলাদা ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হবে। এরপর চিহ্নিত সব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রায় ও একযোগে অভিযান চালানো হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ ইটভাটার চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সদর উপজেলায় বৈধ ১৫টি ও অবৈধ ১২টি, মেহেন্দিগঞ্জে বৈধ ৪টি ও অবৈধ ১২টি, উজিরপুরে বৈধ ২টি ও অবৈধ ৬টি, মুলাদীতে বৈধ ১২টি ও অবৈধ ১৪টি, হিজলায় বৈধ ১৫টি ও অবৈধ ২০টি, বাকেরগঞ্জে বৈধ ৩৩টি ও অবৈধ ২৫টি, বানারীপাড়ায় বৈধ ৬টি ও অবৈধ ১০টি এবং বাবুগঞ্জে বৈধ ২৪টি ও অবৈধ ১২টি ইটভাটা রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার কোনো ইটভাটারই বর্তমানে বৈধ ছাড়পত্র নেই। ফলে ওই উপজেলার সব ইটভাটাই আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, তাদের কার্যক্রম শুধু ইটভাটায় সীমাবদ্ধ নয়। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিবেশগত শর্ত লঙ্ঘন এবং অন্যান্য পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সমানভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করাও তাদের মূল লক্ষ্য।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীনের নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ের এসব কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন-বরিশাল জেলায় কেউই পরিবেশ ধ্বংসের সুযোগ পাবে না।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেন,“আমরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ ইটভাটাসহ পরিবেশে ক্ষতিকর সব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছি। বৈধ ইটভাটাগুলোও নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। কেউ পরিবেশ ধ্বংসের সুযোগ পাবে না-এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”